বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ইউরোর ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডের সাম্প্রতিক মন্তব্য সে আলোচনাকে আরো উসকে দিয়েছে। তার মতে, বিশ্ব বাণিজ্য এখন রক্ষণশীল নীতি প্রভাবিত। এমন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থ ব্যবস্থায় ডলারের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে ইউরো। খবর আনাদুলু এজেন্সি।
বিশেষজ্ঞরাও ইউরোর এ সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হলে ইউরোর পক্ষে ডলারের স্থান দখল করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা। কারণ ইউরোজোনের মধ্যে আর্থিক ঐক্যের অভাব ও মার্কিন পুঁজিবাজারের গভীর প্রভাব এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
রাবো ব্যাংকের ফরেক্স স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান জেন ফোলি বলেন, ‘ইউরোজোনের মধ্যে আর্থিক বিভক্তি, মার্কিন অর্থনীতির সুশৃঙ্খল কাঠামো ডলারের আধিপত্যকে ধরে রেখেছে। তবে এর মানে এই নয় যে ইউরো বা চীনা ইউয়ানের মতো অন্যান্য মুদ্রা ভবিষ্যতে ডলারকে চ্যালেঞ্জ জানাবে না।’
জেন ফোলির মতে, ইউরোকে আরো কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে ইউরোজোনের পক্ষ থেকে বাণিজ্যে এ মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হবে। ধারাটি বিস্তৃত হলে ডলারনির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে।
ব্যালিঙ্গার গ্রুপের ফরেক্স বিশ্লেষক কাইল চ্যাপম্যান বলেন, ‘ইউরোর ডলারের বিকল্প হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, তার জন্য ইউরোপকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত সংস্কার আনতে হবে।’
তার মতে, ডলারের প্রতি বৈশ্বিক আস্থার মূল কারণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর, সুসংহত ও তারল্যপূর্ণ ঋণ বাজার। অন্যদিকে ইউরোপজুড়ে বাজার খণ্ডিত, প্রতিটি দেশের নিজস্ব রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে।
ডলারকে টপকাতে হলে ইউরোপকে আরো বেশি যৌথ ঋণ ইস্যু করতে হবে, ইইউ স্তরে অর্থনীতি ও মূলধন বাজারের মধ্যে আরো সমন্বয় আনতে হবে। সেই সঙ্গে ইউরো-মূল্যায়িত ইনভয়েস ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে হবে বলেও জানিয়েছেন কাইল চ্যাপম্যান।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, ইউরোর পক্ষে রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ডলারের বিকল্প হয়ে ওঠা সম্ভব। তবে তা হবে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, অর্থনৈতিক সংস্কার ও ইউরোপজুড়ে আরো বেশি ঐক্য।